সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম হাউজের গুদাম থেকে ৫৫ কেজির বেশি সোনা গায়েব হয়েছে। এর মধ্যে অলংকার ও সোনার বার রয়েছে।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অফিস খোলার পর বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ করে কাস্টমস কতৃপক্ষ। অভিযোগপত্রে গায়েব হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ৫৫ কেজির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাস্টমসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কারা এসব সোনা গায়েব করেছে তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া ও খুঁজে পাওয়া পণ্য রাখার স্থানের পাশেই রয়েছে কাস্টমসের গুদাম। বিমানবন্দরে কাস্টমসহ বিভিন্ন এজেন্সির জব্দ করা মূল্যবান সামগ্রী জমা থাকে ওই গুদামে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) তৌহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাস্টমসের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী স্বর্ণ হারানোর কোনো সুযোগ নেই। হয় কেউ আত্মসাৎ করেছে, না হয় চুরি করেছে।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার নুরুল হুদা আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গুদাম থেকে সোনার হদিস না মেলায় আমরাও বিব্রত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে একটি সিন্ডিকেট এ ধরনের কাজে জড়িত বলে আমরা তথ্য পাচ্ছি।
কাস্টমস হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই জব্দকৃত মালামাল গুদাম থেকে চুরি হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউস কাজ করছিল। শুক্রবার ও শনিবার কাস্টমস হাউজের আলাদা দুটি টিম গুদামের মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা এবং গুদাম পরিষ্কারের কাজ শুরু করে।
শনিবার একটি টিম দেখতে পায় যে, বাইরে থেকে তালা অক্ষত থাকলেও ভেতরের লকার ভাঙা অবস্থা রয়েছে। এরপরই সন্দেহ সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। গুদামের মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই চুরি হওয়া প্রকৃত মালামাল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য বের করা সম্ভব হবে। চোর নিজেদের ভেতরেই রয়েছে বলেও ধারণা তাদের। তাদের শনাক্তে কাজ করছে একটি যৌথ টিম।